লাশ ময়নাতদন্তে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে পুলিশ অফিসার ও মেহেরুন থানায় ফেরার উদ্দেশ্যে গাড়ি ওঠে। চলন্ত গাড়ির ভেতর আচমকা পুলিশ অফিসার হেসে ওঠে। মেহেরুন কিছু বিচলিত হয়ে প্রশ্ন করে, “স্যার,হাসছেন কেনো?’’
“খুনী ধরা পড়ে গেছে।’’
“কিহ!কখন?কিভাবে?’’
পুলিশ অফিসার তার ফোনটা বের করে একটা ভায়েজ রেকর্ডে গিয়ে একটা ভয়েজ ক্লিপ চালু করলেন।
“স্যার,আমরা লাইব্রেরীয়ানকে খুঁজতে খুঁজতে একটা বাড়ির সামনে এসেছি। আমার সন্দেহ লাইব্রেরীয়ান ভেতর।’’
পুলিশ অফিসার প্রতিউত্তরে বলে, “তুমি ভেতরে গিয়ে দেখো।’’
“ওকে স্যার।’’
সেকেণ্ড দুয়েক নিস্তব্ধতা তারপর
“স্যার একটা চিৎকারের শব্দ পেয়েছি। আপনি দ্রুত চলে আসুন, মনে হয় খুনী এখানেই।’’
পুলিশ অফিসার ভয়েজ ক্লিপটা বন্ধ করে বললেন, “কী বুঝলেন?’’
“আপনার আর আপনার সহকারীর কথোপকথন।’’
“ভালো করে লক্ষ্য করে দেখেছেন আমার যখন ঘরে প্রবেশ করি তখন রুমে প্রচুর ধোঁয়া ছিল। যার ফলে আমাদের চোখ জ্বলে।’’
“হ্যাঁ তো?’’
“এর মানে রুমের দরজা কখন খোলাই হয়নি। অর্থাৎ আমার সহকারী কখন বাড়ির ভেতরেই যায়নি।’’
“কিন্তু আপনার সহকারী তো রুমের….’’
কথাটা বলতে গিয়েও থেমে গেলো মেহেরুন। একটা টানা হাসি দিয়ে সে বলল, “বুঝেছি। সহকারী রূপী লোকটাই খুনী। সে রুমের ভেতর থেকে কখন বেরই হয়নি। যার ফলে রুমের ভেতর থাকা ধোঁয়া রয়ে যায়।’’
পুলিশ অফিসার একটু হাসল। হেসে সে বলল, “খুনী যত চালাকই হোক না কেনো একটা ভুল সর্বদাই করে ফেলে। না হলে এই জগতে কোনো দিনও কোনো খুনী ধরা পড়ত না।’’
“বুঝি নাই, আপনি খুনীকে না ধরে ছেড়ে কেনো দিলেন?’’
“তাকে বিজয়ের আনন্দ উপভোগ করার জন্যে ছেড়ে দিয়েছি। সে তো ভাব্বে সে বিজয়ী।’’
ফোনের গ্যালারিতে গিয়ে পুলিশ অফিসার সেই নকল সহকারীর ছবিটি মেহেরুনকে দেখিয়ে বলল, “জনাব শরিফুল সাহেবের সঙ্গে চেহারার অনেক মিল। পার্থক্য শরিফুল সাহেবের কোনো দাড়ি নেই, আর এই লোকটার দাড়ি আছে।’’
“হ্যাঁ,তাই তো!’’
“আমরা এখন এডিটরের কাছে যাচ্ছি। ছবি থেকে দাঁড়িগুলো কাটতে হবে তো।’’
মেহেরুন একটু হাসল। হেসে সে বলল, “হ্যাঁ, উকিল সাহেবকে সেইভ করার সময় হয়ে গেছে।’’
“খুনী ধরা পড়ে গেছে।’’
“কিহ!কখন?কিভাবে?’’
পুলিশ অফিসার তার ফোনটা বের করে একটা ভায়েজ রেকর্ডে গিয়ে একটা ভয়েজ ক্লিপ চালু করলেন।
“স্যার,আমরা লাইব্রেরীয়ানকে খুঁজতে খুঁজতে একটা বাড়ির সামনে এসেছি। আমার সন্দেহ লাইব্রেরীয়ান ভেতর।’’
পুলিশ অফিসার প্রতিউত্তরে বলে, “তুমি ভেতরে গিয়ে দেখো।’’
“ওকে স্যার।’’
সেকেণ্ড দুয়েক নিস্তব্ধতা তারপর
“স্যার একটা চিৎকারের শব্দ পেয়েছি। আপনি দ্রুত চলে আসুন, মনে হয় খুনী এখানেই।’’
পুলিশ অফিসার ভয়েজ ক্লিপটা বন্ধ করে বললেন, “কী বুঝলেন?’’
“আপনার আর আপনার সহকারীর কথোপকথন।’’
“ভালো করে লক্ষ্য করে দেখেছেন আমার যখন ঘরে প্রবেশ করি তখন রুমে প্রচুর ধোঁয়া ছিল। যার ফলে আমাদের চোখ জ্বলে।’’
“হ্যাঁ তো?’’
“এর মানে রুমের দরজা কখন খোলাই হয়নি। অর্থাৎ আমার সহকারী কখন বাড়ির ভেতরেই যায়নি।’’
“কিন্তু আপনার সহকারী তো রুমের….’’
কথাটা বলতে গিয়েও থেমে গেলো মেহেরুন। একটা টানা হাসি দিয়ে সে বলল, “বুঝেছি। সহকারী রূপী লোকটাই খুনী। সে রুমের ভেতর থেকে কখন বেরই হয়নি। যার ফলে রুমের ভেতর থাকা ধোঁয়া রয়ে যায়।’’
পুলিশ অফিসার একটু হাসল। হেসে সে বলল, “খুনী যত চালাকই হোক না কেনো একটা ভুল সর্বদাই করে ফেলে। না হলে এই জগতে কোনো দিনও কোনো খুনী ধরা পড়ত না।’’
“বুঝি নাই, আপনি খুনীকে না ধরে ছেড়ে কেনো দিলেন?’’
“তাকে বিজয়ের আনন্দ উপভোগ করার জন্যে ছেড়ে দিয়েছি। সে তো ভাব্বে সে বিজয়ী।’’
ফোনের গ্যালারিতে গিয়ে পুলিশ অফিসার সেই নকল সহকারীর ছবিটি মেহেরুনকে দেখিয়ে বলল, “জনাব শরিফুল সাহেবের সঙ্গে চেহারার অনেক মিল। পার্থক্য শরিফুল সাহেবের কোনো দাড়ি নেই, আর এই লোকটার দাড়ি আছে।’’
“হ্যাঁ,তাই তো!’’
“আমরা এখন এডিটরের কাছে যাচ্ছি। ছবি থেকে দাঁড়িগুলো কাটতে হবে তো।’’
মেহেরুন একটু হাসল। হেসে সে বলল, “হ্যাঁ, উকিল সাহেবকে সেইভ করার সময় হয়ে গেছে।’’
“স্যার আপনার বলা মতো ছবি হতে দাড়ি সরিয়ে দিয়েছি। দেখুন তো। ’’
পুলিশ অফিসার ছবিটি দেখে বলেন, “হুবহু শরিফুল সাহেব।’’
মেহেরুন পুলিশ অফিসারকে প্রশ্ন করল, “তাহলে বোয়াল মাছটাকে এখন কিভাবে ধরবেন?’’
“সম্মানের সহিত থানায় ডেকে। উনি যথাসম্ভব দু'দিন পর আমার কাছ থেকে একটা কেসের ফাইল পাবেন।’’
পুলিশ অফিসার নিজ ডেস্কে ফিরে এসে ফোনটা হাতে নিলেন। কল করলেন শরিফুল সাহেবের কাছে।
একটা লম্বা সালাম দিয়ে পুলিশ অফিসার বললেন, “থানায় একটু আসতে পারবেন? ওই যে কেসের যে ফাইলটা তৈরি করার কথা ছিল সেটা আজই শেষ করতে পেরেছি। এখুনিই নিয়ে যান।’’
“আসছি। ’’
কল কাটতেই পুলিশ অফিসারের নিকট এক কনস্টেবল এসে বলল, “স্যার যে লোকটাকে আপনি ধরতে বলে ছিলেন তাকে আমরা ধরতে পেরেছি।’’
“কোন লোকটা?’’
“ওই যে স্যার সেদিন মাঠে যে লাশটা আমরা পাই তার সঙ্গে থাকা অপর ব্যক্তিকে।’’
“ওহ! আমি আসছি। ’’
জেল খানার ভেতর পুলিশ অফিসার ঢুকতেই জেলখানায় থাকা ছেলেটা বলে ওঠে, “উকিলের বাচ্চাটা আমার মাকে কয়েক বছর আগে খুন করেছিল। তাকে আমি কী করে ছাড়ি?’’
পুলিশ অফিসার ছেলেটার সামনে থাকা চেয়ারে বসে পড়লেন। এরপর তিনি বললেন, “তোমাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। কারণ তুমি নির্দোষ, উকিল সাহেবকে কিছুক্ষণের ভেতর আমরা ধরতে চলেছি। তার কৃত কর্মের ফল তো সে পাবেই। তোমাকে কিছুক্ষণ থাকতে হবে। ডাইরীটা আমার নিকট হস্তান্তর করলে উপকৃত হ’তাম।’’
ছেলেটা পুলিশ অফিসারের নিকট ডাইরীটা দিয়ে দিল। ডাইরীটা নিয়ে পুলিশ অফিসার নিজ ডেস্কে ফিরে এলেন।
পুলিশ অফিসার ছবিটি দেখে বলেন, “হুবহু শরিফুল সাহেব।’’
মেহেরুন পুলিশ অফিসারকে প্রশ্ন করল, “তাহলে বোয়াল মাছটাকে এখন কিভাবে ধরবেন?’’
“সম্মানের সহিত থানায় ডেকে। উনি যথাসম্ভব দু'দিন পর আমার কাছ থেকে একটা কেসের ফাইল পাবেন।’’
পুলিশ অফিসার নিজ ডেস্কে ফিরে এসে ফোনটা হাতে নিলেন। কল করলেন শরিফুল সাহেবের কাছে।
একটা লম্বা সালাম দিয়ে পুলিশ অফিসার বললেন, “থানায় একটু আসতে পারবেন? ওই যে কেসের যে ফাইলটা তৈরি করার কথা ছিল সেটা আজই শেষ করতে পেরেছি। এখুনিই নিয়ে যান।’’
“আসছি। ’’
কল কাটতেই পুলিশ অফিসারের নিকট এক কনস্টেবল এসে বলল, “স্যার যে লোকটাকে আপনি ধরতে বলে ছিলেন তাকে আমরা ধরতে পেরেছি।’’
“কোন লোকটা?’’
“ওই যে স্যার সেদিন মাঠে যে লাশটা আমরা পাই তার সঙ্গে থাকা অপর ব্যক্তিকে।’’
“ওহ! আমি আসছি। ’’
জেল খানার ভেতর পুলিশ অফিসার ঢুকতেই জেলখানায় থাকা ছেলেটা বলে ওঠে, “উকিলের বাচ্চাটা আমার মাকে কয়েক বছর আগে খুন করেছিল। তাকে আমি কী করে ছাড়ি?’’
পুলিশ অফিসার ছেলেটার সামনে থাকা চেয়ারে বসে পড়লেন। এরপর তিনি বললেন, “তোমাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। কারণ তুমি নির্দোষ, উকিল সাহেবকে কিছুক্ষণের ভেতর আমরা ধরতে চলেছি। তার কৃত কর্মের ফল তো সে পাবেই। তোমাকে কিছুক্ষণ থাকতে হবে। ডাইরীটা আমার নিকট হস্তান্তর করলে উপকৃত হ’তাম।’’
ছেলেটা পুলিশ অফিসারের নিকট ডাইরীটা দিয়ে দিল। ডাইরীটা নিয়ে পুলিশ অফিসার নিজ ডেস্কে ফিরে এলেন।
ঘণ্টাখানেক পর শরিফুল সাহেব থানায় আসলেন। পুলিশ অফিসারের ডেস্কের সামনের চেয়ারে বসে আছেন তিনি। পুলিশ অফিসারের দেয়া ফাইলটা মনোযোগ সহকারে পড়ছেন তিনি।
একটু রাগান্বিত হয়ে তিনি বললেন, “এসব কী হচ্ছে? এটা তো আমার কেসের ফাইল নয়।’’
পুলিশ অফিসার মৃদু হাসলেন।
“কেনো স্যার কেসটা কী আপনার কাছে অপরিচিত নাকি?’’
“যা-হোক আমার কেসের ফাইলটা দিন।’’
“দিচ্ছি!’’
পুলিশ অফিসার দুটো ছবি শরিফুল সাহেবের দিকে এগিয়ে দিলেন।
শরিফুল সাহেব ছবি দুটো দেখে পুলিশ অফিসারের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। একটি ছবি হলো যখন তিনি নকল সহকারী সাজে আর আরেকটি হলো সেই একই ছবি দাড়ি বিহীন।
শরিফুল সাহেব একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, “তাহলে আমাদের সকল খুনের সমাপ্তি হলো? না না প্রমাণ ছাড়া তো আমাকে শাস্তি দিতে পারবেন না। কোনো প্রমাণ আছে?’’
“আপনার হাতে লিখিত ডাইরী খানা আমার কাছে রয়েছে। কোনো ফায়দা নেই। আপনি তো সেদিন মাঠে একজনকে হত্যা করেন আরেকজন রয়ে যায় তাকেও কিছুক্ষণ আগে ধরে ফেলেছি। জেল খানায় আছে মুলাকাত করবেন নাকি?’’
শরিফুল সাহেব কিছুক্ষণ ভাবলেন। ভেবে বললেন, “সায়েম কোথায়?’’
“তাকে দিয়ে আপনার কী কাজ?’’
“আমার শেষ ইচ্ছে আমার ডাইরীটা তার নিকট যেন হস্তান্তর করা হয়।আর এখন সে এখানে উপস্থিত থাকলে উপকৃত হ’তাম। তাকে কিছু জানানোর ছিল। ’’
“হবে না। ’’
“যদি আমার নিজ মুখে আমার সকল পাপের স্বীকারোক্তি চান তাহলে আমার ইচ্ছেগুলো মানতে হবে। ’’
পুলিশ অফিসার সায়েমকে থানায় আসতে বললেন। কিছুক্ষণের ভেতর সায়েম এসে পৌঁছাল।
সায়েম পুলিশ অফিসারের পাশে বসে আছে। উকিল সাহেব তথা শরিফুল সাহেব সায়েমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “অনেক প্রশ্ন তোমার মাথায় লুকোচুরি খেলছে তাই না? ভাবলাম যখন নিজের পাপের শাস্তি পাবই তখন সবটা তোমায় বলেই যাই।’’
“কী বলবেন আমায়? নর পিশাচদের মতো আপনার দ্বারা করা খুনগুলোর বিবরণ?’’
শরিফুল সাহেব একটু হাসলেন।
“নাহ! আমাকে বলতে দেও। আজ থেকে আরো অনেক বছর আগে আমি আমার প্রথম কেসটা হেরে যাই। সেই কেসে মূল অপরাধী ছাড়া পেয়ে যায়, সাজা পায় অন্য আরেকজন। কালো কাপড়ে ডাকা থাকে লেডি জাস্টিসের চোখ দুটো। সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যেকে সত্য করা যায়। তবে প্রবাদ বাক্য আছে যেমন কর্ম তেমন ফল। সেদিন সেই অপরাধীটা যখন ছাড়া পায় বেশ হতাশ হয়ে পড়ি। তাহলে কী মানুষ তার কর্ম ফল পাবে না? চিন্তা করলাম তার কর্ম ফল আমিই দিয়ে দিলে কেমন হয়?এরপর আমি সেই অপরাধীকে খুন করি। খুব ভালো লাগে। বোঝাতে পারব না আমার কত ভালো লাগে। এরপর নানান কেস স্টাডি করতাম যেসব কেসের প্রকৃত অপরাধী আমার মনে হতো ধরা পড়ে নাই, অপরাধী অন্য কেউ সেসকল ব্যক্তিদের আমি হত্যা করতে লাগি। এক সময় এই হত্যা লীলা নেশাতে পরিণত হয়। যখন কোনো অপরাধী না পাই তখন আমি সাধারণ, নিরীহ মানুষ হত্যা শুরু করি। কিন্তু হত্যা পর আমি সেগুলো ডাইরীতে লিখে রাখতাম। আমার ডাইরী পুরোটা পড়ে থাকলে বুঝতে প্রতিটা নিরীহ ব্যক্তির হত্যার বিবরণ। আমি অগণিত খুন করেছি। আমার নিজেরই মনে নেই কতগুলো করেছি। ’’
পুলিশ অফিসার বলে ওঠেন, “রেকর্ড ডান। আপনার বয়ান নেয়া হয়ে গেছে এবার জেল আপনার অপেক্ষা করছে। ’’
শরিফুল সাহেব বললেন, “সায়েম শোনো লাইব্রেরীতে ডাইরীটা আমিই রাখি। কারণ ডাইরীতে আর কয়েকটা পৃষ্ঠাই বাকি ছিল। আমি জানতাম এদিক আমি ধরা পড়ব আর আমার পাপের শাস্তিও পাবো। ডাইরীর শেষ পাতাগুলো তোমার পূর্ণ করতে হবে। কী লিখবে সেটা ডাইরীর প্রচ্ছদ বলে দিবে। ’’
একটু রাগান্বিত হয়ে তিনি বললেন, “এসব কী হচ্ছে? এটা তো আমার কেসের ফাইল নয়।’’
পুলিশ অফিসার মৃদু হাসলেন।
“কেনো স্যার কেসটা কী আপনার কাছে অপরিচিত নাকি?’’
“যা-হোক আমার কেসের ফাইলটা দিন।’’
“দিচ্ছি!’’
পুলিশ অফিসার দুটো ছবি শরিফুল সাহেবের দিকে এগিয়ে দিলেন।
শরিফুল সাহেব ছবি দুটো দেখে পুলিশ অফিসারের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। একটি ছবি হলো যখন তিনি নকল সহকারী সাজে আর আরেকটি হলো সেই একই ছবি দাড়ি বিহীন।
শরিফুল সাহেব একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, “তাহলে আমাদের সকল খুনের সমাপ্তি হলো? না না প্রমাণ ছাড়া তো আমাকে শাস্তি দিতে পারবেন না। কোনো প্রমাণ আছে?’’
“আপনার হাতে লিখিত ডাইরী খানা আমার কাছে রয়েছে। কোনো ফায়দা নেই। আপনি তো সেদিন মাঠে একজনকে হত্যা করেন আরেকজন রয়ে যায় তাকেও কিছুক্ষণ আগে ধরে ফেলেছি। জেল খানায় আছে মুলাকাত করবেন নাকি?’’
শরিফুল সাহেব কিছুক্ষণ ভাবলেন। ভেবে বললেন, “সায়েম কোথায়?’’
“তাকে দিয়ে আপনার কী কাজ?’’
“আমার শেষ ইচ্ছে আমার ডাইরীটা তার নিকট যেন হস্তান্তর করা হয়।আর এখন সে এখানে উপস্থিত থাকলে উপকৃত হ’তাম। তাকে কিছু জানানোর ছিল। ’’
“হবে না। ’’
“যদি আমার নিজ মুখে আমার সকল পাপের স্বীকারোক্তি চান তাহলে আমার ইচ্ছেগুলো মানতে হবে। ’’
পুলিশ অফিসার সায়েমকে থানায় আসতে বললেন। কিছুক্ষণের ভেতর সায়েম এসে পৌঁছাল।
সায়েম পুলিশ অফিসারের পাশে বসে আছে। উকিল সাহেব তথা শরিফুল সাহেব সায়েমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “অনেক প্রশ্ন তোমার মাথায় লুকোচুরি খেলছে তাই না? ভাবলাম যখন নিজের পাপের শাস্তি পাবই তখন সবটা তোমায় বলেই যাই।’’
“কী বলবেন আমায়? নর পিশাচদের মতো আপনার দ্বারা করা খুনগুলোর বিবরণ?’’
শরিফুল সাহেব একটু হাসলেন।
“নাহ! আমাকে বলতে দেও। আজ থেকে আরো অনেক বছর আগে আমি আমার প্রথম কেসটা হেরে যাই। সেই কেসে মূল অপরাধী ছাড়া পেয়ে যায়, সাজা পায় অন্য আরেকজন। কালো কাপড়ে ডাকা থাকে লেডি জাস্টিসের চোখ দুটো। সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যেকে সত্য করা যায়। তবে প্রবাদ বাক্য আছে যেমন কর্ম তেমন ফল। সেদিন সেই অপরাধীটা যখন ছাড়া পায় বেশ হতাশ হয়ে পড়ি। তাহলে কী মানুষ তার কর্ম ফল পাবে না? চিন্তা করলাম তার কর্ম ফল আমিই দিয়ে দিলে কেমন হয়?এরপর আমি সেই অপরাধীকে খুন করি। খুব ভালো লাগে। বোঝাতে পারব না আমার কত ভালো লাগে। এরপর নানান কেস স্টাডি করতাম যেসব কেসের প্রকৃত অপরাধী আমার মনে হতো ধরা পড়ে নাই, অপরাধী অন্য কেউ সেসকল ব্যক্তিদের আমি হত্যা করতে লাগি। এক সময় এই হত্যা লীলা নেশাতে পরিণত হয়। যখন কোনো অপরাধী না পাই তখন আমি সাধারণ, নিরীহ মানুষ হত্যা শুরু করি। কিন্তু হত্যা পর আমি সেগুলো ডাইরীতে লিখে রাখতাম। আমার ডাইরী পুরোটা পড়ে থাকলে বুঝতে প্রতিটা নিরীহ ব্যক্তির হত্যার বিবরণ। আমি অগণিত খুন করেছি। আমার নিজেরই মনে নেই কতগুলো করেছি। ’’
পুলিশ অফিসার বলে ওঠেন, “রেকর্ড ডান। আপনার বয়ান নেয়া হয়ে গেছে এবার জেল আপনার অপেক্ষা করছে। ’’
শরিফুল সাহেব বললেন, “সায়েম শোনো লাইব্রেরীতে ডাইরীটা আমিই রাখি। কারণ ডাইরীতে আর কয়েকটা পৃষ্ঠাই বাকি ছিল। আমি জানতাম এদিক আমি ধরা পড়ব আর আমার পাপের শাস্তিও পাবো। ডাইরীর শেষ পাতাগুলো তোমার পূর্ণ করতে হবে। কী লিখবে সেটা ডাইরীর প্রচ্ছদ বলে দিবে। ’’
কথাটা বলেই শরিফুল সাহেব আচমকা দাঁড়িয়ে গেলেন। হিংস্র হায়নার মতো সায়েমের দিকে তেড়ে আসতে চাইল। পুলিশ অফিসার এক ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দিলেন। সাথে সাথে শরিফুল সাহেব কোমড়ে থাকা বন্দুকটা বের করে নিজের মাথায় গুলি করে দিলেন।’’
কিছুক্ষণ নিস্তব্ধতা। সব কিছুই ঘরের বাম পাশে এতক্ষণ ধরে চলা ক্যামেরাতে রেকর্ড হয়েছে। শরিফুল সাহেবের স্বীকারোক্তি থেকে শুরু করে সব কিছুই।
কিছুক্ষণ নিস্তব্ধতা। সব কিছুই ঘরের বাম পাশে এতক্ষণ ধরে চলা ক্যামেরাতে রেকর্ড হয়েছে। শরিফুল সাহেবের স্বীকারোক্তি থেকে শুরু করে সব কিছুই।
শরিফুল সাহেব হঠাৎ সায়েমের দিকে কেনই বা তেড়ে গেলো আর কেনই বা নিজেকে নিজে গুলি করে মারলেন তা আজও রহস্য রয়েই গেলো।
সেদিন ফেরার সময় পুলিশ অফিসারের কাছ থেকে সায়েম ডাইরীটা নিয়ে যায়।
“চারটি মাস অতিবাহিত হয়ে গেলো এখন বুঝে ওঠতে পারিনি সেদিন খুনী আমায় ডাইরীতে কী লিখতে বলেছিল। প্রতিদিন রাতে ডাইরীটি নিয়ে বসি, কী লিখব ভাবতে থাকি কিন্তু লিখা আর হয়না। ’’
টেবিলের সাথে থাকা চেয়ারে বসে মনে মনে ভাবতে লাগলো সায়েম। ডাইরীর প্রচ্ছদ এর দিকে সে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। এখানে কিছুই নেই, শুধু বড় বড় অক্ষরে নেমেসিস লিখা।
সায়েম বিড় বিড় করে কয়েকবার লিখাটি পড়ল, “নেমেসিস,নেমেসিস!’’
মুহূর্তের ভেতর সায়েমের মগজে যে বিদ্যুৎ খেলে গেল। সে দ্রুত ডাইরীর শেষের পাতাতে গিয়ে লিখা শুরু করল। ঘণ্টা খানেক লিখার পর সে এক বিজয়ী হাসি হেসে বলে, “নেমেসিস!’’
ডাইরীর শেষ কয়েক পৃষ্ঠায় সে বিগত কয়েক দিনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো লিখেছে। শেষ পৃষ্ঠার নিচের দিকে সে লিখেছে, “যেমন কর্ম তেমন ফল। যে যতটুকু পাপ করে, সে ঠিক তার সমপরিমাণ শাস্তি পাবে। এক চুল এদিকও নয়, ওদিকও নয়।’’
সমাপ্ত…….
সেদিন ফেরার সময় পুলিশ অফিসারের কাছ থেকে সায়েম ডাইরীটা নিয়ে যায়।
“চারটি মাস অতিবাহিত হয়ে গেলো এখন বুঝে ওঠতে পারিনি সেদিন খুনী আমায় ডাইরীতে কী লিখতে বলেছিল। প্রতিদিন রাতে ডাইরীটি নিয়ে বসি, কী লিখব ভাবতে থাকি কিন্তু লিখা আর হয়না। ’’
টেবিলের সাথে থাকা চেয়ারে বসে মনে মনে ভাবতে লাগলো সায়েম। ডাইরীর প্রচ্ছদ এর দিকে সে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। এখানে কিছুই নেই, শুধু বড় বড় অক্ষরে নেমেসিস লিখা।
সায়েম বিড় বিড় করে কয়েকবার লিখাটি পড়ল, “নেমেসিস,নেমেসিস!’’
মুহূর্তের ভেতর সায়েমের মগজে যে বিদ্যুৎ খেলে গেল। সে দ্রুত ডাইরীর শেষের পাতাতে গিয়ে লিখা শুরু করল। ঘণ্টা খানেক লিখার পর সে এক বিজয়ী হাসি হেসে বলে, “নেমেসিস!’’
ডাইরীর শেষ কয়েক পৃষ্ঠায় সে বিগত কয়েক দিনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো লিখেছে। শেষ পৃষ্ঠার নিচের দিকে সে লিখেছে, “যেমন কর্ম তেমন ফল। যে যতটুকু পাপ করে, সে ঠিক তার সমপরিমাণ শাস্তি পাবে। এক চুল এদিকও নয়, ওদিকও নয়।’’
সমাপ্ত…….
পাপের সাজা সবাইকেই পেতে হবে। হোক ইহকালে, হোক পরকালে। একদিন না একদিন
পেতেই হবে।
পেতেই হবে।

Comments
Post a Comment