'১৫ বছর পর সপ্নহিনা  ফিরে দেখা'
ছেলে : কেমন আছো?
মেয়ে : এইতো আছি বেশ; আপনি? 
ছেলে : দেখতেই তো পাচ্ছো,,।
মেয়ে : হুম, বেশ পরিবর্তন হয়েছে গায়ে,
মাথার ঝাঁকড়া চুল গুলো পাতলা হয়ে গেছে।
ছেলে : তুমিও তো বেশ পরিবর্তন, 
আগের চেয়েও সুন্দর, সু-গঠন।
মেয়ে :এতোদিন পরে চিনতে পেরেছেন কিভাবে? 
ছেলে :কয়েক সেকেন্ড ভাবছি তাকিয়ে,
চিরচেনা মুখটি যে দাড়িয়ে।
মেয়ে: সংসারটা কাটছে কেমন?
ছেলে: তা আর শুরু করলাম কখন?
মেয়ে : (মৃদু হেসে) কি বুঝাতে চান?
দেবদাস হয়ে আমাকে অপরাধী বানানোর ভান?
ছেলে : বাদ দাও ওসব কথা।
বর বুঝি খুব ভালবাসে? আমার চেয়েও সে তোমায় বেশি বুঝে?
মেয়ে : এসব জেনে আপনার কি লাভ?
বেঁচে আছি এইতো বেশি। কাটছে সময়,যাচ্ছে বছর। আপনি বলুন সংসার টা করেননি কেন?
ছেলে: যে চাঁদের হাসি দেখে বাঁধ ভাঙত বারে বারে,যারে বুকের রাজমহলে সুরক্ষিত রেখেছি পূর্ণ করে।যার গায়ের মিষ্টি গন্ধ এখনো সুভাষে জড়ানো,যার হাজারো চিমটি,খামচে আর শত পাগলামি এখনো ভাবায়,যার ঈষৎ নিষ্পাপ মুখটা এখনো জলজ্যান্ত রূপ নেয়।তুমিই বলো তাকে কোথায় ঠেলে অন্যকে নিয়ে সংসার সাজাবো?
মেয়ে : 'চোখের কোণে জল' এতই যদি ভালবাসেন তাকে তবে কেন পাঠালেন অন্যের ঘরে? যাকে ভালবাসিনা তবুও তাকে সমস্ত সোপর্দ করে এই মরুর বুকে বেঁচে থাকা কতোটা যন্ত্রণাদায়ক আপনি তা বোঝেন? যে মেয়েটা আপনাকে এখনো ভালবাসে অথচ আপনি তার জীবনে নেই, এটা কে কি জীবন বলে? ভালবাসা যদি পরস্পরকে কাছে আনার জন্য সৃষ্টি হয় তবে কেন এই নিদারুণ বিচ্ছেদ? সেদিন খুব স্বাভাবিক ভাবে বলেছিলেন "যে লোকে কত কিছু ত্যাগ করে, আমাকেও না হয় ত্যাগ করলে"।দু'হাতে ক্ষমা চেয়েছিলেন।মনে আছে? সেদিন আমার মতো অসহায় এই পৃথিবীতে দ্বিতীয় কেউ ছিল না।
ছেলে: 'দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে' হয়তো আমাদের আর দেখা হবেনা। হয়তো আমার মৃত্যুর সংবাদটাও তুমি শুনবে না। শেষ বার একটু তোমার হাতটা ধরতে চাই। দিবে হাতটা?
মেয়ে : 'চোখ ভরা জল' দীর্ঘ সময়ের শোকের ক্ষত আজ বড় তীব্র। এখানে নতুন করে সব জাগিয়ে তোলার কি দরকার? বুকের ভেতর যে আগুনের শিখা পুড়ে পুড়ে ছাই এর স্তুপ তৈরি হয়েছে তাতে ফু' দিয়ে নতুন করে আগুন জ্বালানোর কি দরকার। কেন এলেন আবার এই হৃদয়টা পুড়াতে? সেই তো ভাল ছিল যখন ছিল শেষ দেখা।
ছেলে : আমার বাস্তবতাটা নির্মম ছিল। আজও ক্ষমা চাচ্ছি; পারলে ক্ষমা করো!
তবে আসি....।।
ভাল থেকো !

Comments

Popular posts from this blog